দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সোমবার মোদি প্রথমে ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছাবেন। এরপর তিনি অস্ট্রেলিয়া সফর করবেন এবং ১১ জুলাই নিউজিল্যান্ডে সফর শেষ করবেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রুদ্রেন্দ্র ট্যান্ডন বলেন, সম্প্রতি মরিশাস ও সেশেলস সফর এবং চলতি সপ্তাহে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নয়াদিল্লি সফরের পর ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির অংশ হিসেবে ভারত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলীয় সামুদ্রিক অঞ্চলগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অবস্থানকালে মোদি দেশটির শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এছাড়া তিনি ঐতিহাসিক মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডও (এমসিজি) পরিদর্শন করবেন। ভারত বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস রয়েছে, যা অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম অভিবাসী সম্প্রদায়গুলোর একটি।
অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন জোটে কিছু রাজনৈতিক টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফর ঐতিহাসিক। গত ৪০ বছরের মধ্যে এটিই কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম নিউজিল্যান্ড সফর।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিলে ভারত ও নিউজিল্যান্ড একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে ভারতের শতভাগ এবং নিউজিল্যান্ডের ৯৫ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে, যা দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/